নিজস্ব প্রতিবেদক:
মানবতার সেবায় নিবেদিত এক চিকিৎসক—অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারেরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে তিনি অর্জন করেছেন দেশজুড়ে প্রশংসা ও সম্মান। কিন্তু সেই মানবিকতার প্রতীক হাসপাতালেই এবার নেমে এসেছে ভয় ও আতঙ্কের ছায়া।
রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত তার প্রতিষ্ঠিত সিকেডি (CKD) ইউরোলজি হাসপাতালে ঢুকে চাঁদাবাজি, হুমকি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। এসময় তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তা না দিলে কর্মীদের ওপর হামলার হুমকি দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত হাসপাতালের খাবার সরবরাহকে কেন্দ্র করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে রোগীদের জন্য ডিম, কলা ও চাল সরবরাহ করতেন। তবে বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় সেই চুক্তি বাতিল করেন ডা. কামরুল।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি নিজেই বাজার ঘুরে কম দামে ন্যায্যমূল্যে পণ্য আনার ব্যবস্থা করি। এতে সে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং টেন্ডার না পেয়ে চাঁদাবাজির পথে যায়।”
ডা. কামরুল জানান, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায়।
“আগে সে আমাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখত। কিন্তু এখন নিজেকে বড় নেতা ও কমিশনার প্রার্থী দাবি করে প্রভাব বিস্তার করছে।”
একদিন তিনি হাসপাতালে না থাকাকালে ৬০-১০০ জন লোক নিয়ে এসে স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ডা. কামরুল।
একজন চিকিৎসক, যিনি বিনা পারিশ্রমিকে হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন—তার হাসপাতালেই যদি চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চলে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
স্বাস্থ্যখাতের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
মানবিক সেবার জায়গা যেন না হয় ভয় ও চাঁদাবাজির আস্তানা—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

