জুলাইযোদ্ধাদের সাথে ছাত্রদল ও পুলিশের সংঘর্ষ : ওসিসহ আহত ২০,আতঙ্কে পুরো শহর

নিজস্ব প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুর শহর রোববার বিকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ১৪৪ ধারা জারির পরও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের মিছিল ঘিরে পুলিশ, শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওয়াহিদ পারভেজও রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের সামনে—যেখানে বিকেল গড়াতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মুহূর্তেই তা সহিংস রূপ নেয়।

শনিবার রাতের একটি তুচ্ছ কথা-কাটাকাটি থেকেই মূলত পরিস্থিতির সূচনা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে বিরোধ হাতাহাতিতে গড়ায়। এতে ফাহিম আহত হন।

এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে উভয় পক্ষ বিক্ষোভের ডাক দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে প্রশাসন বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে—যা স্পষ্টভাবে সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে।

কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

পুলিশ বাধা দিলে শুরু হয় উত্তেজনা—এরপরই লাঠিচার্জ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ছাত্রদলের ব্যানারে “জুলাই ফাইটার্স” সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে যোগ দেয়। তখন সংঘর্ষ রূপ নেয় ত্রিমুখী সহিংসতায়।

ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া, মারধর—পুরো এলাকা আতঙ্কে ডুবে যায়
সাধারণ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে আশ্রয় নেয় আশপাশের দোকান ও বাসায়
যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বারবার হামলার শিকার হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—
আইন মানতে অনীহা কি বাড়ছে?
সংঘবদ্ধ সহিংসতা কি নতুন মাত্রা নিচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের “সন্ত্রাসী কায়দায়” হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে—
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের দাবি: পুলিশ বিনা কারণে হামলা চালিয়েছে, পরে ছাত্রদলও আক্রমণে যুক্ত হয়
ছাত্রদলের দাবি: ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হয়েছে
পুলিশের বক্তব্য: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রথমে শিক্ষার্থীরাই হামলা চালায়।

শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে অবস্থা
ইতোমধ্যে ২ জনকে আটক করা হয়েছে
মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *