নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহরের রাজপথ যখন অপরাধীদের ‘খেলার মাঠ’ হয়ে ওঠে, তখন তার মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ঠিক এমনটাই ঘটল শনিবার রাতে। আধিপত্যের নেশায় মত্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ছররা গুলি আর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হলেন চারজন, যাদের অপরাধ ছিল স্রেফ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকা।প্রতিশোধের নেশায় পথচারী বলিঘটনার মূলে রয়েছে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের পুরোনো কোন্দল।
মোরশেদ খান বনাম সোবাহান-শওকত বলয়। কিছুদিন আগে এলাকায় ফেরার চেষ্টা করলে মোরশেদকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় প্রতিপক্ষ। সেই অপমানের শোধ নিতেই ৪ এপ্রিল, শনিবার রাত ১০টায় মিয়া খান নগর এলাকায় অস্ত্রসহ ঝাঁপিয়ে পড়ে মোরশেদ বাহিনী। টার্গেট ছিল প্রতিপক্ষ, কিন্তু সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বিদ্ধ হলেন: নিস্পাপ এক শিশু, ১২ বছরের ফাহিম।• শ্রমজীবী মানুষ: সিএনজি চালক ও ময়দার মিলের কর্মচারীসহ আরও তিনজন।বর্তমানে তারা সবাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণার সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
মোরশেদ খান—নামের পাশে তকমা আছে ‘বিএনপি নেতা হিসেবে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে ৫ আগস্টের পর ‘সুযোগ’ বুঝে এলাকায় ফিরেছেন নিজের হারানো রাজত্ব উদ্ধারে। আর সেই রাজত্ব কায়েম করতে গিয়ে ঝরছে সাধারণ মানুষের রক্ত।• এক নজরে পুলিশি অ্যাকশন: ঘটনার পর বাকলিয়া থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।• বর্তমান অবস্থা: মূল হোতা ও অস্ত্রধারীদের ধরতে চলছে চিরুনি অভিযান।ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্ববিরোধের জেরে সাধারণ মানুষকে আহত করার এই ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
পর্যবেক্ষণ: রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধীরা যখন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তখন জননিরাপত্তা পড়ে হুমকির মুখে। বাকলিয়ার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই—তাদের একমাত্র পরিচয় তারা ‘সন্ত্রাসী’।

