অর্থনৈতিক চাপে দেশ, তবুও বিদেশ ভ্রমণ—বিটিভির ৩২৯ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রশ্নের ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশজুড়ে যখন মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা—ঠিক সেই সময়েই ৩২৯ কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে নতুন বিতর্কে জড়ালো বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

ডিজিটাল সম্প্রচার প্রযুক্তি শেখা ও যন্ত্রপাতি পরিদর্শনের নামে ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে পাঠানো হচ্ছে ২১ জন কর্মকর্তাকে—এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে—

১৩ জন কর্মকর্তা ৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জার্মানি ও বেলজিয়ামে ‘ফ্যাক্টরি ট্রেনিং’-এ অংশ নেবেন

অন্য ৮ জন কর্মকর্তা ২৫ এপ্রিল যাবেন ইংল্যান্ডে, ডিজিটাল ট্রান্সমিটারসহ যন্ত্রপাতি নির্বাচন (প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন) করতে

সফরের ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে “দেশব্যাপী ডিজিটাল টেরিস্ট্রিয়াল সম্প্রচার প্রবর্তন (প্রথম পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায়।

যেখানে দেশ অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে কি সত্যিই এত বড় অঙ্কের প্রকল্পে বিদেশ সফর জরুরি এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।

সমালোচকদের মতে:

দেশের ভেতরেই প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা যেত

অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণেও দক্ষতা অর্জন সম্ভববিদেশ সফরের আড়ালে অপচয় ও অস্বচ্ছতা থাকতে পারে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ

ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই লিখছেন—

“যেখানে মানুষ নিত্যপণ্যের দাম সামলাতে পারছে না, সেখানে কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ—এটা কেমন উন্নয়ন?”

অনেকে এটিকে “অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

জবাবদিহিতা কোথায়?

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি সরকারি ব্যয়ই হওয়া উচিত হিসেবি ও জনমুখী।

কিন্তু এই সফরগুলো সত্যিই কতটা প্রয়োজনীয়, আর কতটা ‘প্রোটোকল ভ্রমণ’—সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

ডিজিটাল সম্প্রচার অবশ্যই সময়ের দাবি। তবে প্রশ্ন উঠছে— প্রযুক্তি উন্নয়নের নামে যদি অযৌক্তিক ব্যয় হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে?

দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন সিদ্ধান্ত জনগণের আস্থাকে কতটা নাড়া দেবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *