Headlines

দেড় মাসেই দিশেহারা বিএনপি সরকার : পুরনো ব্যর্থতার বোঝা, নতুন সরকারের অব্যবস্থাপনা—সামনে আরও কঠিন সময়

বাংলাদেশে নতুন  সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই বহুমুখী সংকটে পড়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রযন্ত্র। 

অর্থনীতি, জ্বালানি, জনস্বাস্থ্য—সবখানেই চাপ বাড়ছে, আর সেই চাপ সামাল দিতে গিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা এবং বর্তমান সরকারের সমন্বয়হীনতা।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করা এই সরকার আজ ৪৫ দিন পূর্ণ করতেই বড় ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি।

পুরনো সংকটের শেকড়: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের বড় অংশের ভিত্তি তৈরি হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়।

দীর্ঘ ১৮ মাসের শাসনামলে—

টিকাদান কর্মসূচিতে স্থবিরতা

ডলার রিজার্ভের অবনতি

জ্বালানি আমদানিতে পরিকল্পনার অভাব

প্রশাসনিক দুর্বলতা

এসব কারণে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে টিকার ঘাটতি আজকের হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন সরকারের শুরুতেই হোঁচট! 

ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকারকে একসঙ্গে কয়েকটি বড় সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে—

১. জ্বালানি সংকট: 

সারি, রেশনিং, আতঙ্ক

দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন এখন প্রতিদিনের চিত্র।

তেলের রেশনিং চালু

ডিজিটাল “ফুয়েল পাস” ব্যবস্থা

কালোবাজারি ও সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি

কৃষি ও শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত

সরকার দাবি করছে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে “প্যানিক বায়িং” বেশি দায়ী। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি স্পষ্ট।

২. অর্থনীতি:

 ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতি

এলসি খুলতে না পারায় আমদানি ব্যাহত

পরিবহন ব্যয় বেড়ে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা

বেকারত্ব বাড়ার ঝুঁকি

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

৩. জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়:

 হামের থাবা

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

৩৮–৫২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য

৫০+ জেলায় সংক্রমণ

হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও ICU সংকট

দ্রুত নিউমোনিয়া ও জটিলতায় মৃত্যু

World Health Organization-এর সহায়তায় কিছু মৃত্যু নিশ্চিত করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারের পদক্ষেপ: যথেষ্ট, না দেরিতে?

সরকার ইতোমধ্যে—

৬০৪ কোটি টাকার জরুরি স্বাস্থ্য বাজেট

দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি

বিজিবি মোতায়েন

অফিস সময় কমানো ও লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ

বিকল্প জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান

এসব পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এগুলো “প্রতিক্রিয়াশীল”—সমস্যা তৈরি হওয়ার পর নেয়া, আগাম প্রস্তুতি নয়।

আস্থার সংকট: 

গুজব বনাম বাস্তবতা

সামাজিক মাধ্যমে গুজব, টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি এবং সরকারের বার্তায় অস্পষ্টতা—সব মিলিয়ে জনমনে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরকার একদিকে বলছে জ্বালানির ঘাটতি নেই, অন্যদিকে বাস্তবে পাম্পে লাইন—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

 সামনে কী অপেক্ষা করছে?

বর্তমান পরিস্থিতি যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সামনে আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে—

খাদ্য সংকট (সেচ ব্যাহত হলে)

বিদ্যুৎ বিপর্যয়

শিল্পখাতে ধস

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলন

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেঙে পড়া

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এটি শুধুমাত্র একটি সাময়িক সংকট নয়, বরং “সিস্টেমিক ক্রাইসিস”-এর লক্ষণ।

পুরনো সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা এবং নতুন সরকারের প্রস্তুতির অভাব—এই দুইয়ের সমন্বয়ে দেশ আজ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

সরকার যদি দ্রুত কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে না পারে, তাহলে এই সংকট আরও গভীর হয়ে জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *