নিজস্ব প্রতিবেদক: পাহাড়ে রাতের নিস্তব্ধতা চিরে হঠাৎ কান্নার সুর। কাপ্তাইয়ের সিনেমা হল এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি পুরনো শত্রুতা—কোন আক্রোশে এক জনপ্রতিনিধিকে এভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হলো, তা নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। দুর্বৃত্তদের রামদার কোপে এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মামুন অন্ধকারের সেই নারকীয় মিনিট তিনেক।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২রা এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টায় কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেই ওত পেতে থাকা ৪-৫ জনের এক সশস্ত্র দল মামুনের ওপর হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে ক্ষতবিক্ষত হন তিনি। মাথার গভীর ক্ষত আর রক্তাক্ত শরীর নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে ছুটে আসে। ঘাতকরা রাতের অন্ধকারে গা ঢাকা দিলেও রেখে যায় এক বীভৎস দৃশ্য।
“রাজনীতি করাই কি অপরাধ?”—বোনের আকুতি
মামুন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অস্ত্রোপচার শেষেও শঙ্কা কাটেনি। তার বোন পান্না আক্তার আর্তনাদ করে বলেন,
> “ভাইটারে জানে মারার জন্যই কোপাইছে। সে আওয়ামী লীগ করত, এটাই কি তার অপরাধ ছিল? আমরা এখন বিচার চাওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।”
থমথমে কাপ্তাই: কী বলছে পুলিশ?
ঘটনার পর থেকে সিনেমা হল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, আপাতত জীবন বাঁচানোই বড় চ্যালেঞ্জ। সুস্থ হলেই দায়ের করা হবে মামলা।
কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে তা খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

