টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি |
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে নতুন করে উৎকণ্ঠার ছায়া ফেলেছে রহস্যময় ড্রোন উড্ডয়ন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর আকাশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভেসে বেড়ায় লাল-সবুজ রঙের দুটি অজ্ঞাত ড্রোন—যা স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বীপের জেটি সংলগ্ন পূর্ব আকাশে প্রথম দেখা মেলে ড্রোন দুটি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো স্থিরভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় চক্কর দিতে থাকে, যেন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। দ্রুতই খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী ও উদ্বিগ্ন মানুষ জড়ো হন উপকূলজুড়ে।
স্থানীয়দের ধারণা, ড্রোনগুলো এসেছে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এটি হতে পারে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি-এর নজরদারি কার্যক্রমের অংশ।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন,
“এ ধরনের ড্রোন উড্ডয়ন সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। পরিস্থিতি বিবেচনায় নজরদারি জোরদার করা জরুরি।”
দ্বীপবাসী মোহাম্মদ আজিম জানান,
“হঠাৎ আকাশে অচেনা ড্রোন দেখে সবাই ভীত হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের ওপারে সংঘাত ও অস্থিরতা বাড়ায় এমন ঘটনা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের নজরদারি শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, বরং ভবিষ্যতের বড় কোনো ঘটনার ইঙ্গিতও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি দ্রুত উত্থাপন এ মুহূর্তে জরুরি হয়ে উঠেছে।
সেন্টমার্টিনের শান্ত আকাশে ভেসে ওঠা এই ড্রোন কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই উদ্বেগ প্রশমিত করতে।

