অনলাইন ডেস্ক :
দেশের অর্থনীতি যখন বৈশ্বিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে টালমাটাল—ঠিক সেই সময় অতিরিক্ত মূল্যে গম আমদানিকে ঘিরে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬০ হাজার টন গম আমদানির একটি সিদ্ধান্ত যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে সরকারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও নীতির ওপর। অভিযোগ উঠেছে, বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে এই গম কেনা হয়েছে—যার পুরো বোঝা শেষ পর্যন্ত চাপবে সাধারণ মানুষের কাঁধে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি টন গম কেনা হয়েছে ৩০৫ মার্কিন ডলারে। অথচ একই মানের গম আন্তর্জাতিক বাজারে—বিশেষ করে রাশিয়া বা ইউক্রেন থেকে—প্রায় ২৩০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে।
অর্থাৎ প্রতি টনে অতিরিক্ত ব্যয়:
৭৫ ডলার (প্রায় ৯ হাজার টাকা)
মোট অতিরিক্ত ব্যয় (৬০ হাজার টনে):
প্রায় ৫৪ কোটি টাকা!
একটি চালানেই এত বিশাল অঙ্কের ‘অতিরিক্ত খরচ’—যা সহজেই একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বা হাজারো দরিদ্র পরিবারের সহায়তায় ব্যবহার করা যেত।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল। তাদের ভাষায়, এটি এক ধরনের “পলিটিক্যাল প্রিমিয়াম”, যেখানে একটি নির্দিষ্ট দেশকে সন্তুষ্ট রাখতে জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি আরও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা নিয়ে। কারণ, একই সময়ে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে তৃতীয় পক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আমরা কতটা স্বয়ংসম্পূর্ণ?
এমনিতেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। তার ওপর সরকারের এ ধরনের ‘বিলাসী’ বা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আমদানি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে:
ক্ষমতা ধরে রাখতে কি তবে বিদেশি তোষণই প্রধান কৌশল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এভাবে ধারাবাহিকভাবে উচ্চমূল্যে আমদানি চলতে থাকে, তবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বড় ধাক্কা খাবে। যার প্রভাব পড়বে দীর্ঘমেয়াদে—এবং এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।
একটি গম আমদানির সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়—এটি এখন হয়ে উঠেছে জাতীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ৫৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় যেন শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং একটি বড় সংকটের ইঙ্গিত।

