নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
শেখ হাসিনা পারলেও নিজের পিতার ছবি কেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে টাঙাতে পারছেন না তারেক রহমান এই প্রশ্ন ঘিরে আবারও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান কেন তার পিতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর প্রতিকৃতি টাঙাননি, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
বিতর্কের পেছনে রয়েছে অতীতের নজির। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতি টাঙানো ছিল।
তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, শেখ হাসিনা মূলত বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়েছিলেন “নিজের পিতা” হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত “জাতির পিতা” হিসেবে। বিষয়টি ব্যক্তিগত ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সরকারি প্রোটোকলভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
শেখ হাসিনার সরকার আমলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টাঙানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। সংবিধানের কোনো নির্দিষ্ট ধারায় এ নির্দেশ সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিপত্রের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, রাষ্ট্রীয়ভাবে “জাতির পিতা” হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সরকারি অফিসে প্রদর্শন প্রশাসনিক প্রোটোকলের অংশে পরিণত হয়েছিল। অর্থাৎ এটি ছিল নির্বাহী আদেশভিত্তিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অফিসে কার ছবি থাকবে তা নির্ধারণ করে প্রচলিত সরকারি নীতিমালা ও প্রশাসনিক পরিপত্র। বর্তমানে এমন কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নেই, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আত্মীয়ের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রধানমন্ত্রী একক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নিজের পিতার ছবি সরকারি কার্যালয়ে টাঙাতে পারেন না, যদি না তা সরকারিভাবে অনুমোদিত হয় বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে স্বীকৃত হয়। সংবিধানেও ব্যক্তিগত আত্মীয়ের প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বিষয়ে কোনো ধারা নেই।
আইনি অবস্থান সংক্ষেপে
- সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ছবি চাইলেই প্রদর্শনের নিয়ম নেই।
- অতীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শন ছিল প্রশাসনিক আদেশভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
- বর্তমান সরকার চাইলে নতুন পরিপত্র জারি করে নীতিমালা পরিবর্তন করতে পারে তবে সেটিও হবে নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি মূলত রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য বনাম দলীয় রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন। একদিকে “জাতির পিতা” হিসেবে স্বীকৃতি, অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতির মর্যাদা এই দুই অবস্থান থেকেই বিতর্কটি সামনে এসেছে।

