নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর সারা দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঝিমিয়ে পড়া তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন প্রাণের স্পন্দন দেখা দিচ্ছে। গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের অধিকাংশ জেলা ও উপজেলা কার্যালয়গুলো তালাবদ্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও, গত কয়েকদিনে চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সারা দেশে একের পর এক বন্ধ কার্যালয়গুলো পুনরায় খুলতে শুরু করেছেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
তৃণমূলের পদচারণায় মুখর কার্যালয়গুলো গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন। খুলনা মহানগরী, পটুয়াখালীর দশমিনা, বরগুনার বেতাগী, দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং চট্টগ্রামের উত্তর জেলা কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় তালা ভেঙে বা আলোচনার মাধ্যমে কার্যালয়গুলো উন্মুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্যালয়গুলো খোলার পর নেতাকর্মীরা সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করছেন। অনেক জায়গায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতির জানান দিচ্ছে তৃণমূল।
উজ্জীবিত হচ্ছে নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে বা নিষ্ক্রিয় থাকার পর হঠাৎ এই তৎপরতা তৃণমূলের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বরগুনা ও পটুয়াখালীর স্থানীয় নেতারা জানান, দলের দুঃসময়ে কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু কার্যালয়গুলো খোলার ফলে তারা আবার একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র ফিরে পাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, এই কার্যালয়গুলো কেন্দ্র করেই আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি পুনরায় সুসংগঠিত হবে।
রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও কোনো কোনো জায়গায় ছাত্র-জনতার বা প্রশাসনের বাধার খবর পাওয়া গেছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর ‘নমনীয়’ অবস্থানের সুযোগে আওয়ামী লীগ কর্মীরা প্রকাশ্যে আসছেন। বিশেষ করে জামায়াত-বিরোধী অবস্থানে অনেক স্থানে বিএনপি নেতাদের পরোক্ষ সহযোগিতায় কার্যালয় খোলার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, কার্যালয় খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং দোয়া-মাহফিলের আয়োজন কেবল একটি প্রতীকী কাজ নয়; বরং এটি দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তারা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ের এই জাগরণই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিত্তি গড়ে দেবে।
বিগত দেড় বছরে যে নীরবতা বজায় ছিল, তা ভেঙে রাজপথে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের প্রত্যাবর্তন এবং দলীয় কার্যালয়গুলোর তালা উন্মোচন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

