এসআই সন্তোষ হ/ত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়া হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদীর ইউরোপে পালানোর চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বানিয়াচং থানায় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করা হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ইউরোপে যাওয়ার লক্ষ্যে তিনি সেখানে একটি দূতাবাসে ভিসার জন্য অপেক্ষমাণ আছেন এমন তথ্য মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের দিনে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সংঘর্ষ, থানায় হামলা এবং পুলিশের গুলিতে গ্রামবাসী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওইদিন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ‘পুলিশ হত্যার বিচার’ দাবিতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষিতে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বানিয়াচং থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করে, অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। দীর্ঘ সময় দরকষাকষির পর সেনাবাহিনী বাকি পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিলেও এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে উন্মত্ত জনতার হাতে রেখে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরবর্তীতে থানার চত্বরে এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন, ৬ আগস্ট, তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষুব্ধ জনতা শেষ পর্যন্ত এসআই সন্তোষকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে অনড় অবস্থানে ছিল।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেনি বলে অভিযোগ ওঠে।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় মাহদী হাসান থানার ভেতরে গিয়ে আরেকজন সন্ত্রাসীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে নিজের ‘বীরত্ব’ দাবি করে পুলিশকে হুমকি দিচ্ছেন। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে তাকে পরে মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। সেই জামিনকালেই তিনি দেশ ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এ উদ্দেশ্যে দিল্লিতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এত গুরুতর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ও স্বীকারোক্তিদাতা একজন ব্যক্তি কীভাবে দেশ ছাড়ার সুযোগ পাচ্ছেন, এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা কোথায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *