ঢাকা | ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আজ ১৬ই ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি, অকুতোভয় সমরনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস যাঁকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছিল লড়াইয়ের কৌশল, আজকের এই দিনে জাতি পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেই মহানায়ককে।
যে রণকৌশলে এলো স্বাধীনতা
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে যুদ্ধের শুরুতে ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী গড়ে তোলা ছিল জেনারেল ওসমানীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি সাহসিকতার সাথে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছিলেন।
”জেনারেল ওসমানী না থাকলে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় এতটা সহজ হতো না।” — সামরিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। তাঁর দক্ষতায় যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিটি সেক্টর সুসংগঠিত হয়েছিল।
ক্ষমতার লোভহীন জীবন
সামরিক জীবনের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নীতিবান ও ক্ষমতার লোভহীন মানুষ। স্বাধীন দেশের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেয়েও গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল বেশি। ১৯৭৫ সালে দলের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় নিজের স্বার্থের তোয়াক্কা না করে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যা ইতিহাসে তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শোকাবহ দিবস
দিবসটি উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাঁর জন্মস্থান সিলেটবাসী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আজ ভোরেই সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে।

