হামিদুর রহমান আযাদ: ধর্মীয় মুখোশের আড়ালে এক আতংকের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ই ফেব্রুয়ারী, শনিবার

হামিদুর রহমান আযাদ ১৯৬৫ সালের ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এ যুক্ত। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি, ঢাকা মহানগরী সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। ১৯৯৫ সালে জামায়াতে ইসলামী-এ যোগ দেন এবং বর্তমানে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরা সদস্য। ২০০৮ সালে তিনি কক্সবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কিন্তু পদবী ও ক্ষমতার আড়ালে, তার ছাত্রজীবনের ইতিহাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়। ১৯৯০ সালের ২২ ডিসেম্বর, সকাল ১১টায়, তার নেতৃত্বে শিবির এক ভয়ঙ্কর সহিংসতা চালায়। কিরিচ, রড, লাঠি, হকিস্টিক, ককটেল—এই সব অস্ত্র দিয়ে শিক্ষক-ছাত্রদের উপর হামলা চালানো হয়। অধ্যাপক ড. আফতাব আহমেদ, অধ্যাপক ড. শিরিন হক, অধ্যাপক হামিদা বানুসহ অসংখ্য শিক্ষক ও ছাত্র আহত হন। পাশের রুমে ফারুকুজ্জামান প্রাণ হারান। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালের সাহায্য নিতে বাধ্য হন।
শিবিরের এই তাণ্ডব বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো শিক্ষা কার্যক্রম কয়েক সপ্তাহের জন্য স্থবির করে দেয়। প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে, ফ্যাকাল্টিতে প্রবেশ বন্ধ করে, পুরো ক্যাম্পাসকে এক অলিখিত সন্ত্রাসের আঁকড়ে পরিণত করা হয়েছিল। অশুর ও তার কাছে শিশু—এতোটা হিংস্র ছিলো তার ছাত্রজীবনের সময়।
কক্সবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচনে তিনি হেরে গেলেও, জাতীয় পর্যায়েও তার প্রভাব ভয়ঙ্কর ছিল। বিরোধী দলকে কোণঠাসা করা, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের উপর অসংখ্যবার হামলার ঘটনা রেকর্ডে আছে। টিক্কা খান ছিলেন পাকিস্তানের কসাই—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কক্সবাজার-২ কুতুবদিয়া-মহেশখালীর “কসাই” হিসেবে পরিচিত হলো হামিদুর রহমান আযাদ।
যে তরুণ প্রজন্ম হয়তো জানে না, তার ছাত্রজীবনের অত্যাচারের ইতিহাস আজও মানুষকে আতঙ্কিত করে। তার হাতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ—সবারই নিরাপত্তা ছিল অনিশ্চিত। কেউ তার সামনে শিশুর মতো অসহায় হলেও সে রূপান্তরিত হতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে।
এমনই ইতিহাস, এমনই ভয়ঙ্কর বাস্তবতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *