আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক:

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিণতি কী হবে—তা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের নিউ ইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি স্পষ্ট করেন। ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক এই অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে যে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের নিজস্ব কোনো নির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেই।

​২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের পর বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাণঘাতী পদক্ষেপে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আইনি লড়াই ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু হিসেবে দেখছে। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের তৈরি হওয়া টানাপোড়েন নিরসনে ঢাকা ও দিল্লির যৌথ ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করে ওয়াশিংটন।

​এছাড়া, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং দেশের জনগণ ও সরকারকেই এ বিষয়ে পথ নির্ধারণ করতে হবে।” মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএনপির সাথে বর্তমান চমৎকার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সাথে যুক্ত থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র অংশীদার হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

​একই সাথে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশ্নে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে একক পক্ষ গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করে না। বরং বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝে সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে পাশে থাকতে চায় ওয়াশিংটন।

​অন্য এক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ডনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ ও ছবি তোলার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে মার্কিন প্রশাসন।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version