নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তির ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত শুধু টিউশন ফি ও আবাসন খরচ দেওয়ার প্রস্তাব—পাকিস্তানের শিক্ষা সহযোগিতা উদ্যোগ নিয়ে এমন অভিযোগে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবেদন, পরীক্ষা ও কঠিন বাছাই প্রক্রিয়া পেরিয়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অফার লেটার হাতে আসার পরই সামনে এসেছে সুবিধা নিয়ে এই অসঙ্গতি।
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের থমকে থাকা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকা সফর করেন। ওই সফরে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ বাড়াতে ‘নলেজ করিডোর’ নামে শিক্ষা সহযোগিতা উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) পরিচালিত এ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছিল ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তি। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, বিদেশে পড়াশোনার প্রয়োজনীয় প্রধান ব্যয়গুলো এই বৃত্তির আওতায় থাকবে।
কিন্তু বাছাই শেষে মাস্টার্সে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের দেওয়া অফার লেটারে সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফার লেটারে টিউশন ফি ও আবাসন খরচের কথা থাকলেও খাবার, মাসিক ভাতা, যাতায়াত ও বিমান ভাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ খরচের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ফলে বৃত্তি পাওয়ার আনন্দের বদলে এখন অনেক নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সামনে তৈরি হয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা—বিদেশে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করবেন কীভাবে?
শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ এটিকে শুধু প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসঙ্গতি নয়, বরং ‘প্রতারণা’ হিসেবেও দেখছেন। কারণ, ‘ফুললি ফান্ডেড’ শব্দটির ওপর নির্ভর করেই তারা আবেদন, পরীক্ষা ও বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন।
ঘটনাটি দুই দেশের সাম্প্রতিক শিক্ষা সহযোগিতার উদ্যোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কূটনৈতিক মহলেও এমন পরিস্থিতিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—ঘোষণায় যদি বৃত্তি ‘ফুললি ফান্ডেড’ হয়, তাহলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের অফার লেটারে কেন খাবার, ভাতা, যাতায়াত ও বিমান ভাড়ার মতো সুবিধাগুলোর নিশ্চয়তা নেই?
শিক্ষার্থীরা বিষয়টির দ্রুত ব্যাখ্যা এবং ঘোষিত সুবিধাগুলোর বাস্তবায়ন চান। অন্যথায়, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে ঘোষিত ‘নলেজ করিডোর’ই প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাস তৈরির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

