পীরগঞ্জ প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সরকারি চালের অবৈধ মজুতের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করতে গিয়ে স্থানীয় দুই যুবক নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার বিকেলে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের লালদীঘি মেলা হাট এলাকায় ‘মেসার্স নূর ট্রেডার্স’ নামের একটি গুদামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত চালের গুদামটি সিলগালা করে দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বিকেলে কয়েকটি ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি চালের বস্তা এনে সাবেক ইউপি সদস্য কায়েম মেম্বারের মালিকানাধীন ‘মেসার্স নূর ট্রেডার্স’-এ ঢোকানো হচ্ছিল। বিষয়টি পথচারী ও স্থানীয়দের সন্দেহজনক মনে হলে দুই যুবক মুঠোফোনে চাল খালাসের দৃশ্য ভিডিও করতে শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গুদামের কর্মচারীরা ওই দুই যুবককে জোরপূর্বক গুদামের ভেতরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং আটকে রেখে মারধর করে।
মারধরের ঘটনা ও অবৈধ চাল মজুতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সরকারি কর্মসূচির চাল কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন গুদামে আনা হচ্ছিল, সে বিষয়ে গুদাম কর্তৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। চালের উৎসের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে গুদাম মালিক কায়েম মেম্বার সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন, “আমি ১৭ বছর ব্যবসা করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে।” উল্লেখ্য, তার ছেলে নূর মোহাম্মদ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
ঘটনার খবর পেয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত চালের গুদামটি সিলগালা করে দেয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে। গুদামে রক্ষিত চালের প্রকৃত উৎস, বৈধতা ও চাল চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত করতে বৃহস্পতিবার খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত চালানো হবে। তদন্তে অনিয়ম ও অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
