ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ৫ নম্বর শৌলজালিয়া ইউনিয়নের সোনার বাংলা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, বিএনপি নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া এবং পিরোজপুরের একটি আবাসিক হোটেলে রাতযাপনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট দুই নারী হঠাৎ নিখোঁজ হলে তাদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্বজনরা স্ব-স্ব এলাকার সুরক্ষার্থে কাঁঠালিয়া থানা এবং বরিশাল কোতোয়ালি থানায় পৃথক নিখোঁজ জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেন।
জিডির সূত্র ধরে বরিশাল থানা পুলিশ প্রযুক্তি ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিখোঁজ নারীদের অবস্থান পিরোজপুরের ‘রয়েল’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে শনাক্ত করে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম ও ওই নারীরা হোটেল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় গিয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। স্বজনদের দাবি, শহিদুল ইসলামের সাথেই ওই নারী বাড়ি থেকে বের হয়ে পিরোজপুরের হোটেলে ছিলেন।
তবে পরকীয়ার এই গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম ওরফে ভাটা শহীদ। আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলেন, “পিরোজপুরগামী বাসে তাদের সাথে আমার আকস্মিক দেখা হয়। রাতে তাদের থাকার নিরাপদ জায়গা না থাকায় আমি মানবিক কারণে একটি হোটেলে রুম ঠিক করে দিই এবং খাবার কিনে নিই। আমি তাদের সাথে রাতে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাছের রায়হান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের তৎপরতায় নিখোঁজদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদুল ইসলাম এলাকায় উপস্থিত না থাকায় গুঞ্জন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এর আগেও শহীদুলের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সাথে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে।
