কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে পড়ে বসতঘরে থাকা এক রোহিঙ্গা নারী ও তাঁর সাত বছরের শিশুসন্তান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
গতকাল ২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৮ ইস্ট) বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লক এলাকায় থেমে থেমে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সংঘাতের বিবরণ ও হতাহত
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্টের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী তাহেরা বেগম এবং তাঁর ৭ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ। ঘটনার সময় তারা নিজেদের ঘরেই অবস্থান করছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁদের দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আধিপত্যের জেরে ত্রিমুখী লড়াই
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী—আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ), আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এবং আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সংঘর্ষ চলাকালে ‘এআরএ’ ও ‘আরসা’-র সদস্যরা জোটবদ্ধ হয়ে ‘আরএসও’ সদস্যদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলিবর্ষণ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই ঘটনায় পুরো বালুখালী ক্যাম্প এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
আশ্রয়শিবিরের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রয়েছে। গোলাগুলি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের গ্রেপ্তার করতে ওই এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।
