নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরে শুরু হওয়া অতি ভারী বর্ষণে ফের ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে টানা বৃষ্টিতে নগরের নিম্নাঞ্চলসহ প্রধান প্রধান সড়ক গোড়ালি থেকে হাঁটু এবং অনেক এলাকায় কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে কর্মস্থলমুখী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় লঘুচাপের প্রভাবে সকালের দিকে ৩ ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার অতি ভারী বর্ষণ রেকর্ড করা হয়। এর প্রভাবে নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, ফরিদারপাড়া, চকবাজার, আগ্রাবাদ, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ নালাপাড়া ও জামালখানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা দ্রুত পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরও দুই থেকে তিন দিন একই ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি জমার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। কাতালগঞ্জের এক বাসিন্দা জানান, বাসাবাড়ির নিচতলার গ্যারেজ পর্যন্ত হাঁটু পানি এবং বাইরের সড়কে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় অফিস-আদালত বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় মূল সড়কে পানির প্রবল স্রোত থাকায় হেঁটে পার হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
জলজটকে কেন্দ্র করে নগরের পরিবহন খাতেও চরম বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে দূরত্বের রিকশাভাড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা ছিল, তা একলাফে ১৫০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হয়। যানবাহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষদের বাড়তি অর্থ গুণতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশ শেষ হলেও বর্ষা নামলেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থবিরতা এবং খাল ভরাট বা সংস্কারকাজ অসম্পূর্ণ থাকার কারণে বাসিন্দারা রেহাই পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, খালের পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে সাময়িক এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে তাঁদের টিম মাঠে কাজ করছে।
