নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
ঢাকা: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় পাসের হার এবং সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। দেশজুড়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে—যা গত বছরের (৬৮.৪৫%) চেয়ে ৬.২ শতাংশ কম।
একই সঙ্গে অকৃতকার্য বা ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জনে পৌঁছেছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষা পদ্ধতিতে সাম্প্রতিক কড়াকড়ি এবং গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে এমন ফল বিপর্যয় দেখা গেছে।
পাসের হার: ৬২.২৫% (গত বছর ছিল ৬৮.৪৫%)।
মোট ফেল: ৬,৯০,৬০৮ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
জিপিএ-৫: ১,১৬,৬৭৬ জন (গত বছর ছিল ১,৩৯,০৩২ জন)।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান: সারা দেশে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যা গত বছরের (১৩৪টি) দ্বিগুণেরও বেশি।
শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান: কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে (গত বছর ছিল ৯৮৪টি)।
বিশেষ করে সাধারণ বোর্ডগুলোর মূল বিষয় ইংরেজি ও গণিতে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সার্বিক ফলাফলে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৫৮.২০ শতাংশে নেমে আসায় সামগ্রিক পাসের হার আরও নিচে নেমে যায়। উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষাবোর্ডের কঠোর অবস্থান এবং শিথিল নম্বর প্রদান বন্ধ থাকাকেও এই ধসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল বিপর্যয় শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি দূর করে শিক্ষার সঠিক মান পুনরুদ্ধারে একটি বড় সতর্কবার্তা।
