নিজস্ব প্রতিবেদক | Info Bangla
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যাদুর্গত ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ বরাদ্দ করা হলেও প্রশাসনিক চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণে তা আজও পৌঁছেনি অসহায় বানভাসিদের হাতে। সরকারি নিয়মানুযায়ী বরাদ্দকৃত ত্রাণ তিন কর্মদিবসের মধ্যে বিতরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ৩০ মেট্রিক টন চাল গুদামেই পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি, শত শত প্যাকেট খাবারের জায়গায় হাতে গোনা কয়েকটি বিতরণ এবং সময়মতো ছাড়পত্র না দেওয়ায় লাখ লাখ কেজির টিসিবির চাল ফেরত যাওয়ার মতো গুরুত অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত জুন মাসের শেষ দিক থেকে জুলাই পর্যন্ত দুই দফায় নাগেশ্বরীর পাঁচটি ইউনিয়নের ২০টি ওয়ার্ড মারাত্মক বন্যাকবলিত হয়। উপজেলা ত্রাণ শাখার তথ্যমতে, বন্যায় আক্রান্ত হন দুই হাজার ৬৪০ জন মানুষ এবং নদীভাঙনে নিঃস্ব হন আরও শতাধিক পরিবার। এই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৯ জুনে জেলা প্রশাসন থেকে ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা পরদিনই উত্তোলন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বন্যার্তরা পেয়েছে মাত্র ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার; ৩০ মেট্রিক টন চালের এক ছটাকও কোনো ভূক্তভোগীর ভাগ্যে জোটেনি।
চমকপ্রদ তথ্য হলো, বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বরাদ্দের এই চাল সম্পূর্ণ অবন্যাকবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত সন্তোষপুর ও রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং প্রশাসকের নামে উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে তা সরকারি গুদামে রেখে দেওয়া হয়, যার সত্যতা স্বীকার করেছেন খোদ রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন। চাল বরাদ্দ পাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মন্তব্য, তাঁদের এলাকা কখনো প্লাবিত না হলেও ইউএনও-র নির্দেশে এই চাল তুলে গুদামজাত করা হয়েছিল। বন্যাকবলিত এলাকার চেয়ারম্যানরা অভিযোগ তুলেছেন, ইউএনও-র খামখেয়ালি আচরণের কারণেই বানভাসিরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অনিয়মের চিত্র এখানেই শেষ নয়; জুন মাসে টিসিবির চাল ছাড়করণ সংক্রান্ত নথিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সময়মতো স্বাক্ষর না করায় উপজেলার ৪১ হাজার ১০২ জন গ্রাহকের জন্য নির্ধারিত দুই লাখ পাঁচ হাজার ৫১০ কেজি চাল উত্তোলনই করা যায়নি, যা পরে ফেরত চলে যায়।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন দাবি করেন, ত্রাণ বিতরণের আগেই বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় চাল ফেরত না দিয়ে পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য গুদামে রাখা হয়েছে। আর টিসিবির চালের বিষয়ে নিজের অনুপস্থিতির অজুহাত দিয়ে তিনি জানান, সময়সীমা পার হয়ে গেলেও চাল ছাড়া বাকি পণ্য গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়েছে। একদিকে খাদ্য সংকটে পড়া হাজার হাজার মানুষ, অন্যদিকে গুদামে পড়ে থাকা চালের এমন বৈপরীত্য নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
