ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৬ (নিউজ ডেস্ক):
দেশের দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলায় চলমান ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং লাখ লাখ মানুষের চরম দুর্গতিতে গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রোববার (১২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটি এই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকার কোটি মানুষের হাহাকার আর বুক-সমান পানিতে নিমজ্জিত রাজধানী ঢাকার নজিরবিহীন জলাবদ্ধতায় যখন সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত, তখন সরকারের চরম নির্লিপ্ততা ও উদাসীনতা দেশবাসীকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। একদিকে যখন মানুষ আশ্রয়হীন এবং খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকা বান্দরবান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর লাখ লাখ মানুষ বেঁচে থাকার আকুতি জানাচ্ছে, অন্যদিকে ঢাকার রাজপথ প্রমত্ত নদীতে পরিণত হয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ঠিক সেই চরম দুঃসময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সস্ত্রীক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে হাস্যোজ্জ্বল সেলফি তোলার ঘটনা দেশের সচেতন নেটিজেন ও আপামর জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের চরম বিপদের দিনে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন সংবেদনহীনতা ও তামাশা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়। দুর্যোগকালে জনগণকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে এমন আত্মতুষ্টির রাজনীতি বর্তমান সরকারের অদূরদর্শিতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জনগণের প্রতি অকৃত্রিম দায়বদ্ধতা থেকে অতীতে প্রতিটি জাতীয় ও বৈশ্বিক দুর্যোগে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার সবসময়ই জনগণের ঢাল হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল। ২০১৭ ও ২০২২ সালের সিলেট ও উত্তরবঙ্গের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে দুর্গম এলাকায় ছুটে গিয়ে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযান, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং পুনর্বাসনের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছিলেন। ১৯৯৮ সালের বন্যা মোকাবেলার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভূমিকায় বিশ্ববাসী অবাক হয়েছিল। এমনকি কোভিড-১৯ মহামারির বৈশ্বিক দুর্যোগে যখন সারাবিশ্ব থমকে গিয়েছিল, তখনও শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত তড়িৎ ও দূরদর্শী পদক্ষেপে ঘরে ঘরে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়েছে এবং নিম্নবিত্তদের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ দাবি করে, বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা, সমন্বয়হীনতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতির অভাবের কারণে দেশবাসীকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এখনও পর্যন্ত কার্যকর ও পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিবৃতিতে বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে উৎসবমুখর বিলাসিতা পরিহার করে বন্যাদুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহের জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যার্তদের উদ্ধার ও মানবিক সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলটি জানায়, দেশবাসীর যেকোন সংকটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অতীতের মতো সবসময়েই পাশে থাকতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
