নিজস্ব প্রতিনিধি : জুলাই আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পরপরই ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে গেছে প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক মেহের আফরোজ শাওনের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিটি। বিশ্বস্ত সূত্রমতে, সরকারের একটি বিশেষ আইটি সেলের সরাসরি নির্দেশনায় এবং পরিকল্পনায় এই ঘটনা ঘটেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আইডিটি নিষ্ক্রিয় বা রিপোর্ট করার জন্য আইটি সেলের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের কিছু অননুমোদিত স্পামার গ্রুপকে কাজে লাগিয়েছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই কাজে সাধারণ স্পামারদের হাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত টুলসের এক্সেস (প্রবেশাধিকার) দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

নন-প্রফেশনাল এবং বহিরাগত এই স্প্যামারদের হাতে রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ায় দেশের সাইবার নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে।

মেহের আফরোজ শাওনের ফেসবুক আইডি গায়েব হওয়ার এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং এটি বর্তমানে দেশে বিরাজমান মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের এক নগ্ন বাস্তব চিত্রকে ফুটিয়ে তোলে।

বর্তমানে দেশে ভিন্নমত দমন এবং স্বাধীনভাবে নিজের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার কয়েকটি বাস্তব দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একতরফা নিয়ন্ত্রণ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ যদি সরকারের বা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের মতাদর্শের বাইরে গিয়ে ভিন্ন কোনো মন্তব্য করেন, তবে পরিকল্পিত রিপোর্টিং বা সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে তার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।
  • রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতমূলক আচরণ: নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তাদের বিরুদ্ধেই উল্টো ভিন্নমত পোষণকারীদের আইডেন্টিটি বা প্রোফাইল ধ্বংস করার অভিযোগ উঠছে।
  • ভয়ের সংস্কৃতি (Culture of Fear): সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক বা শিল্পীরাও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের স্বাধীন মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, সামান্য ভিন্নমতের কারণেই আইডি হ্যাক, গায়েব হওয়া বা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে।
  • আইনের অপপ্রয়োগ ও সাইবার নজরদারি: সাধারণ স্পামারদের রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তির এক্সেস দেওয়ার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা প্রমাণ করে যে নাগরিকদের ওপর অবৈধ নজরদারি এবং ডেটা চুরির রাষ্ট্রীয় লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে, যা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো নাগরিকের যেকোনো বিষয়ে ভিন্নমত বা নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকার অধিকার রয়েছে। মেহের আফরোজ শাওনের মন্তব্য সাধারণ মানুষের পছন্দ বা অপছন্দ হতে পারে, কিন্তু সেই কারণে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা স্পামার দিয়ে তার ডিজিটাল উপস্থিতি মুছে দেওয়া স্পষ্টতই মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক বড় আঘাত। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে দেশে স্বাধীন চিন্তার পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে পড়বে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version