নিজস্ব প্রতিবেদক | নয়াদিল্লি
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে লক্ষ্যভেদে সক্ষম ভারত! শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে এক গোপনীয় অথচ শক্তিশালী বার্তার মধ্য দিয়ে ভারত সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম অত্যাধুনিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM)। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র এই পরীক্ষা ভারতকে পৌঁছে দিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো সামরিক পরাশক্তিদের সমান্তরালে।
সাধারণ বোমা এখন লক্ষ্যভেদী ‘স্মার্ট’ অস্ত্র
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এই পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (TARA) সিস্টেম। এটি একটি জাদুকরী প্রযুক্তি যা সাধারণ বোমাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করতে পারে। এর ফলে ভারতের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এখন কয়েক গুণ বেশি সূক্ষ্ম ও ধ্বংসাত্মক।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, যদিও নাম জানানো হয়নি, তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটিই ভারতের বহুল প্রতীক্ষিত ‘অগ্নি-৬’ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার এই দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভারত এখন নিজের ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের টার্গেটে আঘাত হানতে সক্ষম।
“সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই আমরা কারিগরিভাবে এই প্রজেক্ট নিয়ে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।” — সমীর ভি কামাত, চেয়ারম্যান, ডিআরডিও।
বিজেপি-র পক্ষ থেকে সোশ্যায় মিডিয়া ‘এক্স’-এ এক ইঙ্গিতপূর্ণ ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের MIRV প্রযুক্তি (একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক হামলা) ভারতের আকাশসীমাকে করবে দুর্ভেদ্য। রালিয়ার ‘আরএস-২৮ সারমাট’ কিংবা চীনের ‘ডিএফ-৪১’ এর সাথে টেক্কা দিতে ভারত এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত কেবল অস্ত্র তৈরি করেনি, বরং জয় করেছে বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের (Re-entry) মতো অত্যন্ত জটিল বৈজ্ঞানিক বাধা। এটি মূলত ভারতের সেই সক্ষমতার প্রমাণ, যা যেকোনো শত্রুকে আক্রমণ করার আগে দশবার ভাবতে বাধ্য করবে।
