নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই আন্দোলনকে খাটো করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত ০৩/০৭/২০২৬ইং তারিখ বিকেলে শাহবাগ থানা এলাকায় অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিও ও কর্মকাণ্ডের সূত্র ধরে এই অভিযোগটি করেন ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (SDF)-এর সদস্য মিল্লাত হোসেন। অভিযোগের সময় তার সঙ্গে সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— চ্যানেল আই-এর উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম, আইনজীবী ও মডেল জান্নাতুল প্রিয়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কলামিস্ট মোমিন মেহেদী, কথিত সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর, মডেল মারিয়া কিসপত্তা এবং মডেল ও অভিনেত্রী তূর্ণী।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, চ্যানেল আই-এর উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম বিভিন্ন টকশোতে জুলাই আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আইনজীবী জান্নাতুল প্রিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনের সহযোগী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের ‘মব’ করার হুমকি দিয়েছেন।
এছাড়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদীর বিরুদ্ধে ঢাকা প্রেসক্লাব এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ এবং শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। কথিত সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর জেল থেকে মুক্তির পর জুলাই আন্দোলনকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
অন্যদিকে, মডেল মারিয়া কিসপত্তা ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিয়ে শহীদ পরিবারদের নিয়ে ভিডিও প্রকাশ এবং আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করছেন বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন। সর্বশেষ, মডেল ও অভিনেত্রী তূর্ণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাক্ষাৎকারে জুলাই মাসকে ‘প্রতারণার মাস’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আন্দোলন নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগপত্রে এই ৬ জনের কর্মকাণ্ডের স্বপক্ষে বিভিন্ন ফেসবুক ও ভিডিও লিংক প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের অবমাননা রোধে এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শাহবাগ থানা পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
