জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে গভীর রাতে দুই নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ছবি তোলার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক যুবদল নেতা। আটকের সময় ওই ব্যক্তি ও তার সঙ্গীর কাছ থেকে দুটি বিয়ারের ক্যানও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবার এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘বটতলা’য় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা শাখা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম দেবাশীষ চৌধুরী। তিনি ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা এবং ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তিনি বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীও ছিলেন।
ঘটনার রাতে তিনি জাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সাথে একটি প্রাইভেটকারে করে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। বটতলায় খাওয়া-দাওয়ার একপর্যায়ে দেবাশীষ সেখানে উপস্থিত দুই ছাত্রীর গোপনে ছবি তুলতে যান। বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে সোপর্দ করেন।
নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর অপরাধ স্বীকার করে লিখিত মুচলেকা দেন দেবাশীষ চৌধুরী। স্বীকারোক্তিতে তিনি উল্লেখ করেন:”আমি বটতলায় খাওয়া-দাওয়া করেছি। খাওয়া-দাওয়া করার পরে আমি কিছু মেয়ের গোপনে ছবি তুলেছি। এই ছবিগুলো আমার তোলা ঠিক হয়নি। আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আর কখনও আমি ছবি তুলতে ক্যাম্পাসে আসব না। এমনকি পুরো বাংলাদেশে আর কখনও কারও অনুমতি ছাড়া এভাবে ছবি তুলব না।”
এত বড় অপরাধের পরও শেষ পর্যন্ত নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো জাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার শর্তে দেবাশীষকে ছেড়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “অভিযোগ ওঠার পর তাকে নিরাপত্তা অফিসে আনা হয়। পরবর্তীতে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে নিজের ও তার ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে আর কখনো ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করবেন না—এই শর্তে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান।”
এদিকে, নিজের অতিথির এমন আপত্তিকর কাণ্ড এবং সাথে থাকা সত্ত্বেও জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
