ঢাকা, ৩০ জুন, ২০২৬:

তীব্র গরম আর চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে বড় ঘাটতির কারণে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিডিবি)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র।

দেশজুড়ে প্রতি রাতে গড়ে ৩ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে এই ঘাটতির মাত্র ১ হাজার মেগাওয়াট সাধারণ লোডশেডিং দিয়ে সামাল দেওয়া গেলেও, বাকি ২ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াটের বিশাল ঘাটতি মেটাতে গভীর রাতেও (রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত) অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা করে বাধ্যতামূলক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে। সেখানে ইতিমধ্যেই দৈনিক ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতেও আজ থেকেই যেকোনো সময় এলাকাভিত্তিক আনুষ্ঠানিক ‘শিডিউল লোডশেডিং’ শুরু হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি কতটা মারাত্মক তা বোঝাতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছেন, তরুণ প্রজন্ম বা ‘Gen-Z’ সম্ভবত তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ সংকটের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছে, যেখানে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে বাকি ১২ ঘণ্টা হয়তো বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হতে পারে।

বর্তমান এই নজিরবিহীন সংকটের মাঝে দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বিগত বছরগুলোর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার কথা মনে করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে যে বৈপ্লবিক ও ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জিত হয়েছিল, তা বর্তমান সংকটে আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল দেশের প্রতিটি প্রান্তে, এমনকি দুর্গম চর ও পাহাড়ি অঞ্চলেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। ২০২২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশকে ‘শতভাগ বিদ্যুতায়নের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ল্যান্ডমার্ক সাফল্য ছিল।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ৪,৯৪২ মেগাওয়াট। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে এবং ‘রেন্টাল-কুইক রেন্টাল’ ও পরবর্তীতে বড় বড় মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮,০০০ মেগাওয়াটের বেশিতে উন্নীত হয়েছিল।

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল, মাতারবাড়ী এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো শেখ হাসিনা সরকারের আমলেই দৃশ্যমান ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হয়েছিল।

২০০১-২০০৬ সালের তীব্র লোডশেডিংয়ের অন্ধকার অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে এনে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটি সেক্টরকে নিরবচ্ছিন্ন সাপোর্ট দিয়েছিল তৎকালীন সরকারের বিদ্যুৎ নীতি।

“বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা এবং সঞ্চালন লাইন থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে দেশ আজ এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সেই বিদ্যুৎ সাফল্যই প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বাংলাদেশ অন্ধকার দূর করে আলোয় ফিরতে পারে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুতই জ্বালানি ও উৎপাদন সংকটের স্থায়ী সমাধান করে দেশকে আবার সেই চেনা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version