নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
প্রবাস থেকে পাঠানো এই বার্তায় তিনি বর্তমান চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মাটিতে অবিচল থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের অদম্য সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে দেশ ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত থাকা সবাইকে স্যালুট জানিয়ে তিনি বলেন,“বাধা উপেক্ষা করে যারা সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের আমি স্যালুট জানাই। আপনাদের এই ত্যাগ বৃথা যাবে না।”
শেখ হাসিনার এই বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বর্তমানে প্রতিকূল অবস্থায় থাকা দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
শেখ হাসিনা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন যে, কারাগারের ভেতরে ও বাইরে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা মাথা নত করেননি। এই আপসহীন মনোভাবই দলের আসল শক্তি।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমি আবারও ফিরে আসব। আপনাদের পাশেই দাঁড়াব।” তিনি জানান, তৃণমূলের সাথে তাঁর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং একটি সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়ে তিনি এগোচ্ছেন।
পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন,“আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, কোনো বিশেষ দলের বাহিনী নন।” নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, সৎ কর্মকর্তাদের সম্মান ও গৌরব ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা তিনি করবেন।
দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন আওয়ামী লীগ সরকারের বিশ্বনন্দিত ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ এবং ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’-এর মতো সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানো জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার বিচার না করার ঘোষণাকে ‘চরম অমানবিক’ ও ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক মঞ্চে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।
নেতাকর্মীদের হৃদয়ে সাহস জোগাতে শেখ হাসিনা বলেন:“আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। ক্ষমতার লোভে নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমি জীবনভর রাজনীতি করেছি। ১৯৮১ সালেও সব হারিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছিলাম, ২০০৭ সালের স্বৈরশাসনের বাধাও উপেক্ষা করে আপনাদের মাঝে ফিরেছি। ইনশাআল্লাহ, আবারও আমি আপনাদের মাঝে ফিরে আসব। এই অন্ধকার কেটে যাবে, আমরা আবারও আলোর পথে যাত্রার নেতৃত্ব দেব।”
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার নতুন অঙ্গীকার
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ বার্তায় শেখ হাসিনা দেশের তরুণ প্রজন্মকে দেশের হাল ধরার আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, আওয়ামী লীগ সবসময় তরুণের শক্তিতে বিশ্বাসী। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, আধুনিক ও ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার যে স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন, তা বাস্তবায়নে তরুণদের আবারও ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর হয়ে রাজপথে নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই সময়োপযোগী ও সাহসী বার্তাটি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের বুক থেকে হতাশা দূর করে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সঞ্জীবনী শক্তি জুগিয়েছে। দলটির পুনরুত্থানের লড়াইয়ে এই বক্তব্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে।
