বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা

বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে জঙ্গিবাদ, জিহাদি ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর (আল কায়েদা, আইএসআইএস, হামাস) অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে প্রমাণ করার একটি সুগভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দেশের অভ্যন্তরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উগ্রপন্থী মতাদর্শের হাজার হাজার পতাকা বিতরণ, ভবন ও সড়কে তা স্থাপন এবং মোটরবাইক র‍্যালির মাধ্যমে প্রকাশ্যে উপস্থিতি জানান দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যখন চরম সংকটের মুখে, তখন প্রশাসনের এমন ‘আশ্চর্যজনক নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল রাষ্ট্র পাকিস্তান কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনেও এভাবে প্রকাশ্যে উগ্রপন্থী প্রতীকের উন্মাদনা দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরে যা ঘটছে, তা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কাউন্টার টেররিজম সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এর ফলে গোটা বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে সন্দেহের তালিকায় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এভাবে প্রকাশ্যে উগ্রপন্থী মিশন চালানোর নজির নেই। প্রশ্ন উঠেছে, এই বিশাল ‘পতাকা মিশন’-এর পেছনে কারা লাখ লাখ টাকা ঢালছে? দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি এই ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা উপলব্ধি করতে পারছে না? নাকি জেনেবুঝেই নীরব ভূমিকা পালন করছে?

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই উন্মাদনা এখনই বন্ধ করা না গেলে কুচক্রী মহল দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ওপর বড় আঘাত হানবে। বিশেষ করে চীনের সাথে বর্তমান বিএনপি সরকারের সম্পর্ক গভীর হওয়ার মুহূর্তে উইঘুর মুসলিম ইস্যু সামনে এনে ঢাকাস্থ চীন দূতাবাস অভিমুখে উগ্রপন্থীদের মিছিল করানোর মতো ষড়যন্ত্রও হতে পারে। এমনকি পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশেও চীনের সহায়তায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আত্মঘাতী হামলার মতো ভয়াবহ ছক আঁকা হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার যেখানে বাংলাদেশকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা নেই এবং তারা কেবল চড়া মূল্যে পণ্য বিক্রির সম্পর্ক রাখতে চায়, সেখানে চীনের রয়েছে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের সক্ষমতা।

অবশ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর কিংবা মালদ্বীপের সাম্প্রতিক সংকটের উদাহরণ টেনে অনেকেই চীনের ‘ঋণফাঁদ’ নীতি নিয়ে সতর্ক করছেন।

 তবে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বক্তব্য:”আমাদের শাসকগোষ্ঠী যদি ফালতু জজবায় না ভেসে যেকোনো দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে ‘জাতীয় স্বার্থ’কে প্রাধান্য দেয়, তবে বাংলাদেশের পরিণতি আফ্রিকা বা শ্রীলঙ্কার মতো হবে না।”

অভিযোগ উঠেছে, বিগত ইউনুস প্রশাসন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে তছনছ করে দিয়ে গেছে। তরুণ সমাজকে পড়ার টেবিল থেকে বের করে রাজপথে নামিয়ে তাদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘মববাজি’ বা মব সংস্কৃতির বিষাক্ত ভাবনা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইউনুস অনুসারী, জামাত এবং উগ্রপন্থী অপশক্তিগুলো যেকোনো উপায়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়ে পুনরায় ক্ষমতা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হলে বর্তমান বিএনপি সরকারকে অনতিবিলম্বে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। উগ্রবাদের এই প্রকাশ্য মহড়া রুখে না দিলে দেশ এক অন্ধকার সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version