ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬:
আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ তালিকায় ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম থাকলেও, সেখানে নেই বহুল আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নাম। ফলে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা হচ্ছে—এমন দাবি নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইন্টারপোলের একটি ভুয়া তালিকার ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা মূলত ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি। প্রকৃতপক্ষে, ইন্টারপোলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বেনজীর আহমেদের নামে কোনো রেড নোটিশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি থাকলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাকে শনাক্ত ও সাময়িক আটক করতে বাধ্য থাকে। কিন্তু বেনজীর আহমেদের নাম তালিকায় না থাকায়, তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের কোনো প্রত্যক্ষ পদক্ষেপের তথ্য বা আইনি ভিত্তি প্রকাশ্যে মিলছে না।
তাহলে “গ্রেপ্তার” বা “আটক” হওয়ার খবরের সত্যতা কতটুকু? বিশ্লেষকরা এখানে দুটি সমীকরণ দেখছেন:
বেনজীর আহমেদ যদি অন্য কোনো দেশে আটক হয়েও থাকেন, তবে সেটি ওই দেশের নিজস্ব আইন বা স্থানীয় কোনো মামলার সূত্রে হতে পারে।
ইন্টারপোলের সরাসরি পদক্ষেপ না হওয়া সত্ত্বেও একে বাংলাদেশের একক আইনি বা কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করার একটি চেষ্টা থাকতে পারে বলে সমালোচকরা অভিযোগ তুলছেন।
ইন্টারপোলের অফিশিয়াল তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও যুদ্ধাপরাধী নূর চৌধুরীসহ ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম রেড নোটিশে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন “বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ধোঁয়াশা তৈরি না করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া বেনজীর আহমেদের বর্তমান অবস্থান কিংবা গ্রেপ্তারের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।”
