বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

আন্তর্জাতিক কূটনীতির চাণক্য চালে শেষ পর্যন্ত রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে বিএনপি। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আগামী সংসদ অধিবেশনেই বিল আসতে পারে—এমন জোর গুঞ্জন এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসে বিশ্বমঞ্চে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার সবক দেওয়ার নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং ভারতের চতুর ‘ওয়ার্ক-এরাউন্ড’ (Work-around) ডিপ্লোমেসির বেড়াজালে পড়েই বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গণতন্ত্র অসম্ভব।

সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির টেকনোক্র্যাট নেতা ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বমঞ্চে সভাপতির ভাষণে তাকে গণতন্ত্রের উন্নয়ন, মানবাধিকার রক্ষা ও বাকস্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিতে হবে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে ভিন্ন চিত্র রেখে বিশ্বমঞ্চে এই ভাষণ দেওয়া বিএনপির জন্য এক বিরাট নৈতিক সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। দেশের মোট ভোটারের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি মানুষের সমর্থন রয়েছে এই দলের পেছনে।

বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগের একটি দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে।

 এছাড়াও একটি বিশাল জনসমর্থনপুষ্ট দলকে নিষিদ্ধ রেখে, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর জেল-জুলুম চালিয়ে বিশ্বমঞ্চে ‘গণতন্ত্রের সবক’ দেওয়া যে কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তা বিএনপিকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বিশেষ করে ভারত ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো এই বিষয়ে বিএনপিকে কড়া ‘লাল-সতর্কবার্তা’ (Red Alert) দিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে।

এই বাস্তবতায়, বিএনপির আইনের ছাত্র ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাল্যকালের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ সংবিধান প্র্যাকটিসের নামে প্রথমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার যে পাঁয়তারা করেছিলেন, তা থেকে এখন পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন। 

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিল উত্থাপনের যৌক্তিক সম্ভাবনা দেখছেন বিদগ্ধ বিশেষজ্ঞরা।

যেভাবে কাজে এল ‘ওয়ার্ক-এরাউন্ড’ ডিপ্লোমেসি

বিএনপি নেতা খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সভাপতি হওয়ার পেছনে পর্দার আড়ালে ভারতের সমর্থন ছিল সবচেয়ে ভাইটাল ফ্যাক্টর। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ‘ওয়ার্ক-এরাউন্ড’ বলতে বোঝায়—যা সোজা আঙুলে হয় না, তা ভিন্ন কৌশলে আদায় করা।

বিগত প্রায় তিন বছর ধরে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের মতো একটি ইতিবাচক ও বন্ধুভাবাপন্ন শক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বহাল করা ভারতের জন্য সহজ ছিল না। কারণ দিল্লির এই চেষ্টার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ক্ষেত্রবিশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো পরাশক্তিগুলো।

এই দেশগুলোর চোখ এড়াতে এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখতে ভারত এক অভিনব চাল চালল। তারা সরাসরি আওয়ামী লীগের দালালি না করে, উল্টো বিএনপির নেতাকে জাতিসংঘের সভাপতি বানাতে সমর্থন দিল। কিন্তু এই সমর্থনের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক সুদূরপ্রসারী শর্ত। জাতিসংঘের ওই সম্মানজনক চেয়ারে বসিয়ে এখন বিএনপিকে বাধ্য করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে। 

উল্লেখ্য, খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রথম এক্স (টুইট) বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর—যা এই সুক্ষ্ম কূটনৈতিক চালেরই ইঙ্গিত দেয়।

আজ হোক বা কাল, আওয়ামী লীগই বিকল্পহীন

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশল যেটাই হোক না কেন, বাংলাদেশে টেকসই স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুখ রক্ষা করতে হলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতেই হবে। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আবেগ ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনো সরকারই টিকতে পারে না। ফলে, খুব দ্রুতই দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সদর্প প্রত্যাবর্তন ঘটতে যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্রের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version