হবিগঞ্জে আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ইউপি কার্যালয়:ওসিসহ আহত শতাধিক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে কালাইনজুড়া গ্রামে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, এই সংঘর্ষের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হন। এরপর প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জাতীয় নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পান ফরিদ আহমদ। তিনি পুনরায় দায়িত্ব নিতে চাইলে প্যানেল চেয়ারম্যান কপিল তাতে আপত্তি জানান। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে হাইকোর্টের রায়ে ফরিদ আহমদ তার পদ ফিরে পান। পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনও তাকে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়।

আজ সোমবার সকালে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, কপিলের সমর্থকরা একপর্যায়ে ফরিদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাঠ নামেন। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

টানা ৩ ঘণ্টা ধরে চলা এই চরম সংঘাতের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এই সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক নিজে আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ও ৫ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী জানান, দায়িত্বভার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকটি গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version