বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশকে এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়ে অবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. আলী রীয়াজ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ আমন্ত্রণে সংস্কারের গুরুদায়িত্ব নিয়ে দেশে এলেও, তার পুরো অধ্যায়টিই ছিল চরম বিতর্ক ও রহস্যে ঘেরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শাসনতন্ত্রকে সংস্কার করার নামে মূলত এক ভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীলনকশা তৈরি করতেই তাকে উড়িয়ে আনা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। আর এই যৌথ অক্ষেরই প্রধান ঘুঁটি হিসেবে বাংলাদেশে অবতীর্ণ হন ড. ইউনূস। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তিনি ওয়াশিংটন থেকে আলী রীয়াজ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মনির হায়দারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

ভেতরের খবর বলছে, আলী রীয়াজের মূল মিশন ছিল ‘সংবিধান সংস্কার’-এর মোড়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে চিরতরে উপড়ে ফেলা। এর সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য ছিল দেশে একটি ছদ্মবেশী ‘খেলাফত রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করা, যার নিয়ন্ত্রণ থাকত সরাসরি ইঙ্গ-মার্কিন ও পাকিস্তানি কুচক্রী মহলের হাতে। এই মিশন সফল হলে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে ভূ-রাজনীতির একটি বিপজ্জনক খেলার মাঠে পরিণত হতো।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দেশের সংস্কার বা সুশাসনের জন্য নয়, বরং নিজের বিদেশি নিয়োগকর্তাদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান। আর এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার বৈধতা তৈরি করতেই ড. আলী রীয়াজকে ব্যবহার করে সংবিধানের খোলনলচে বদলে ফেলার সুনিপুণ ছক কষা হয়েছিল। সংবিধান সংস্কারের এই প্রক্রিয়া দেশে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার মাত্র ছিল বলেও মনে করেন সমালোচকেরা।

আলী রীয়াজসহ বর্তমান সরকারের উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশের অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, এদের উত্থান ও পরিচিতির পেছনে কাজ করেছে কাওরানবাজারের সুপরিচিত দুটি বিতর্কিত মিডিয়া হাউস। ২০০৭ সালের ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ৫ই আগস্টের ঘটনা—প্রতিটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ষড়যন্ত্রের পেছনে এই মিডিয়া সিন্ডিকেটের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। আলী রীয়াজও মূলত এই চক্রেরই অন্যতম কুশীলব, যিনি বুদ্ধিবৃত্তিক মোড়কে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে সিদ্ধহস্ত।

বিশ্লেষকদের অভিমত, ড. আলী রীয়াজের হঠাৎ আমেরিকায় ফিরে যাওয়া দেশের সচেতন নাগরিকদের স্বস্তি দিলেও, তিনি যে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ক্ষত তৈরি করে গেছেন, তার খেসারত বাংলাদেশকে দীর্ঘকাল দিতে হতে পারে। ক্ষমতার মোহে দেশকে বেনিয়া ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার এই চেষ্টা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা।

Leave A Reply

যোগাযোগ
ইমেইল: contact@infobangla.news
ওয়েবসাইট: InfoBangla.news

© ২০২৬ InfoBangla.news — সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
InfoBangla.news এ প্রকাশিত সংবাদ, ছবি, ভিডিও বা যেকোনো কনটেন্ট পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার, পুনঃপ্রকাশ বা বিতরণ আইনত দণ্ডনীয়।

Exit mobile version