নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২৫ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে কোনো দলই চিরস্থায়ীভাবে বিলীন হয়ে যায় না—এই ধ্রুব সত্যটি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শাসক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিয়ে চলমান রাজনৈতিক গুঞ্জনের মধ্যেই সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ মাঠ থেকে হারিয়ে যায়নি, বরং দলটি খুব দ্রুতই দেশের মূলধারার রাজনীতিতে তার হারানো অবস্থান নিয়ে ফিরছে।

সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলটির যে শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে, সেটির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন তারা আউট হয়ে গেছে? না, তারা হয়নি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, খুব দ্রুতই তারা রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে ফিরে আসবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের ইতিহাসের সাথে মিশে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের শাসনামলে দলটির তৈরি করা অবকাঠামো এবং জনসমর্থনই তাদের টিকে থাকার মূল শক্তি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৌহিদ হোসেনের বিশ্লেষণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, “এত বিশাল সাংগঠনিক ভিত্তিসম্পন্ন একটি দলকে ছাড়া দেশে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতি রক্ষা করা কঠিন।”

তাঁর এই মন্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। গণতন্ত্রের চর্চায় সব দলের অংশগ্রহণই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পূর্বশর্ত। আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির ভারসাম্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন অনেক কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ যে তার দলীয় ঐক্য ধরে রেখেছে, তা দলটির কর্মীদের দৃঢ় মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে ভারতসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের গুঞ্জন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা কাজ করছে।

আওয়ামী লীগ যে পুনরায় রাজপথে সরব হতে যাচ্ছে এবং আসন্ন নির্বাচনে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। দেশের সাধারণ মানুষ এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এখন একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অপেক্ষায়।

Leave A Reply

Exit mobile version