চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকার একটি বাসায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। গত শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২নং রোডের কে. জে. এম টাওয়ারের পাশের একটি ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযুক্ত সাকিফ গত বছর চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এদিকে নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এই ঘটনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য দুই নির্দোষ শিক্ষার্থীর নাম জড়ানোর অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাকিফের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের জেরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর ‘মিডিয়া অফ জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রথমে সাকিফ রহমানের নাম উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম যুক্ত করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, দোষ চাপানো ওই দুই শিক্ষার্থী ঘটনার আগেই ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন আজ সকালে সিরাজগঞ্জের নিজ বাড়ি থেকে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ২২ তারিখ আমি বন্ধুদের সাথে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে এসেছি। সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে।” উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ মে প্রিয়ন্তী নামের অন্য শিক্ষার্থীটি শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হেনস্তা ও অপপ্রচারের অভিযোগ এনে প্রক্টর বরাবর বিচার দাবি করেছিলেন। অভিযুক্ত সাকিফ ও শামীম দুজনেই শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাকিফ রহমান দাবি করেন, “ওই ছাত্রী সকালের বাসের টিকিট কেটেছিলেন। রাতে ঘুরাঘুরির পর জোবরা এলাকায় মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে আমার বাসায় নিয়ে আসি। আমি গোসলে ঢোকার পর স্থানীয়রা এসে দরজায় নক করে। তারা আমাদের মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ নিয়ে গেছে।”
এই বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্র মিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়কারী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বর্তমানে ঈদের ছুটি থাকায় পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

