নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম নগরীতে যেন শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের মহামারি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাকলিয়ায় ৪ বছরের শিশুকে নির্যাতনের রেশ না কাটতেই, শুক্রবার মাত্র একদিনের ব্যবধানে নগরের তিনটি ভিন্ন এলাকায় ঘটে গেছে শিশু ধর্ষণের তিনটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। একের পর এক এমন ঘটনায় অভিভাবক মহলে তীব্র উদ্বেগ এবং জনমনে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার রাতে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, রেললাইন সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল বাতেন তার কাছে পড়া ১০ ও ৬ বছর বয়সী আপন দুই বোনকে নির্যাতনের চেষ্টা করেছেন। কুমিল্লার বাসিন্দা এই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে শিশুদের পড়াতেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই দিনে নগরীর বায়েজিদ এবং ডবলমুরিং থানায় আরও দুটি অমানবিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে:
মাত্র ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৫ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণ করা হয়েছে।
হাজী পাড়া এলাকায় ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতই উত্তপ্ত ছিল যে, পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে স্থানীয়দের রোষানলে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকতে হয়।
একই দিনে তিনটি ঘটনায় শিশু ধর্ষণের ‘হ্যাটট্রিক’ চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে এই জঘন্য অপরাধের প্রবণতা থামানো সম্ভব নয়।
একের পর এক এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় এখন চট্টগ্রামের প্রতিটি পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিশু সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
