নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আকস্মিকভাবে একটি বস্তি উচ্ছেদের সময় দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে পুলিশ। “কেন বিনা নোটিশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে?”— সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে এমন যৌক্তিক প্রশ্ন তোলার পরপরই পুলিশ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হন।
গতকাল সকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকস্মিকভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। কোনো আগাম তথ্য বা নোটিশ না থাকায় মুহূর্তের মধ্যে বস্তিবাসী পরিবারগুলোর মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর আশঙ্কায় নারী ও শিশুসহ শত শত বাসিন্দা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই তাদের ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরানোর ন্যূনতম সুযোগটুকুও পাননি বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহের জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা এবং বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিনা— তা নিশ্চিত হতে সাংবাদিকরা সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিনা নোটিশে উচ্ছেদের কারণ জানতে চাওয়া মাত্রই উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্য ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা সাংবাদিকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করেন এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে তাদের ওপর চড়াও হন।
পুলিশের এই অতর্কিত হামলায় মাঠপর্যায়ে কর্মরত বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত দোষী পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

