নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২০ মে, ২০২৬
দেশে চলমান টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত পাঁচটি চিঠি এবং ১০টি পৃথক বৈঠকে সম্ভাব্য এই টিকা সংকট সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলা কার্যক্রম’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই সংকট কোনো অর্থ বা ফান্ডের অভাবের কারণে তৈরি হয়নি। মূলত সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার (Procurement Process) চরম ধীরগতি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সরবরাহ সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭০ মিলিয়ন (৭ কোটি) ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়। তবে গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ১৭.৮ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দেশের নিয়মিত বা রুটিন টিকাদান কর্মসূচি (Routine Immunization) মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে দেশের একটি বিশাল সংখ্যক শিশু প্রয়োজনীয় টিকা ছাড়াই রয়ে গেছে। এর ফলে দেশজুড়ে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের (Outbreak) রূপ নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শিশুদের সুরক্ষায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুততম সময়ে টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক করার তাগিদ দেওয়া হয়।
