নিজস্ব প্রতিবেদক, ইনফো বাংলা
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ২৮৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন। অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে চট্টগ্রামে ৪টি, খুলনায় ২টি, বরিশালে ২টি, সিলেটে ৩টি, রংপুরে ১টি এবং গাজীপুরে ৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা রেঞ্জে সর্বোচ্চ ৬৪টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের অন্যান্য প্রশাসনিক রেঞ্জগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫৪টি, রাজশাহীতে ৩৬টি, সিলেটে ২৪টি, খুলনায় ২৪টি, ময়মনসিংহ ও রংপুরে ১৭টি করে এবং বরিশাল রেঞ্জে ১৫টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এপ্রিলে সারাদেশে ২ হাজার ১১টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া ঢাকা রেঞ্জে ৩৭৫টি, চট্টগ্রামে ২৮৫টি, রাজশাহীতে ২৫২টি, রংপুরে ২৩৭টি এবং বরিশাল রেঞ্জে ২০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই অবনতির মাঝে যোগ হয়েছে অন্যান্য অপরাধের দীর্ঘ তালিকা। এক মাসেই ১৫২টি ডাকাতি, ৯৪টি অপহরণ, ১০৭৩টি চুরি এবং ১৩৯টি অস্ত্র সংক্রান্ত মামলাসহ মোট ১৭ হাজার ১৮০টি বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যে বিশেষ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৮শে এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেটের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় তাকে ডেকে নিয়ে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্যে দিবালোকে এই নৃশংসতা সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম উঠে আসলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।
এর আগে ১৫ই এপ্রিল দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদেক খান এলাকায় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামে এক যুবককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার সেই পৈশাচিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, খোদ নিহতের পিতা ছেলের লাশ দেখতে যাওয়ার সাহস পর্যন্ত পাননি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

