বরিশাল: শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নজিরবিহীন অচলাবস্থার মুখে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। সোমবার (১১ মে) উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবন ও রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। আন্দোলনের চরম পর্যায়ে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ৭ জন ডিন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, পদোন্নতি বোর্ড হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও উপাচার্য ইচ্ছাকৃতভাবে পদোন্নতির বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি, উপাচার্যের ‘স্বেচ্ছাচারিতা’র কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গতি থমকে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
এসময় শিক্ষকরা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার পদত্যাগ ও অসহযোগিতার ডাক দেন। সকাল ১০টার দিকে রেজিস্ট্রারকে দপ্তর ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়। পরে রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ অর্থ, পরিকল্পনা ও জনসংযোগ দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক জানান, কোনো শিক্ষকই এখন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা বা প্রশাসনিক কোনো কাজে অংশ নেবেন না।
“আমরা কোনো দপ্তর সরাসরি তালাবদ্ধ করিনি; আমাদের নির্দেশনায় এবং সংহতি জানিয়ে কর্মচারীরাই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”ড. মো. আব্দুল কাইউম, সহযোগী অধ্যাপক, মার্কেটিং বিভাগ।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ৭টি অনুষদের ডিন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ধীমান কুমার রায় স্পষ্ট জানান, উপাচার্যকে প্রশাসনিকভাবে আর কোনো সহযোগিতা করা হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একে ‘আইনবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন: “আলোচনার পথ খোলা আছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে আন্দোলন সমীচীন নয়। অন্যের কাজে বাধা দেওয়া আইনত দণ্ডনীয়। এই কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে আমরা কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
