নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল হোতা পলাতক রয়েছে।
আটক হওয়া যুবক উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। অন্যদিকে, পলাতক মূল অভিযুক্ত যুবক গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীর সাথে স্কুলে যাতায়াতের পথে মূল অভিযুক্তের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে অভিযুক্তরা ওই ছাত্রীকে কৌশলে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর গোয়ালন্দ পৌর শহরের নির্জন একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, ধর্ষণের সময় সে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
যেভাবে ধরা পড়ে অভিযুক্ত
ধর্ষণ শেষে রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত দুই যুবক ওই কিশোরীকে তার বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে দিতে আসে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়রা ধাওয়া দেয়। এ সময় মূল অভিযুক্ত যুবক কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অন্যজনকে হাতেনাতে আটক করে জনতা। আজ রোববার সকালে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
আইনি পদক্ষেপ
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
“ধর্ষণের অভিযোগে আমরা এক যুবককে আটক করেছি। ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরবর্তী আইনগত ও চিকিৎসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”
পৌর শহরের পুকুরপাড়ে এমন জঘন্য ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
