স্টাফ রিপোর্টার :
দেশে হামের মহামারি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, সরকারি হিসেবেই মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে, তবে বেসরকারি সূত্র মতে এই সংখ্যা হাজারেরও উপরে।
যখন মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হারিয়ে হাহাকার করছেন, তখন রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে আসা বক্তব্য কেবল কাণ্ডজ্ঞানহীনই নয়, বরং মৃত শিশুদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নিষ্ঠুর উপহাসের শামিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার বকুল সাহেবের সাম্প্রতিক মন্তব্য-
“হাম নিয়ে জাতিকে ভয় দেখানোর কিছু নেই! হাম ছোটবেলায় আমার হয়েছে, আপনাদেরও হয়েছে! আমরা মরে যাইনি, আমাদের লংজিবিটি (আয়ু) আরও বৃদ্ধি পেয়েছে!” – দেশজুড়ে চরম ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলুপ্তপ্রায় এই হামের পুনরায় মহামারি আকারে ফিরে আসার মূলে রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসের চরম অব্যবস্থাপনা এবং প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত। টিকা আমদানির বিষয়টি অবজ্ঞা করার খেসারত দিচ্ছে আজ ১ থেকে ২ বছরের নিষ্পাপ শিশুরা।
একদিকে ইউনূস প্রশাসনের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতা, অন্যদিকে বর্তমান বিএনপি সরকারের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অযোগ্যতা— দুইয়ে মিলে দেশকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। গত মার্চ মাস থেকে এই রোগের প্রকোপ শুরু হলেও সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা না করে কেবল ‘দায় চাপানোর রাজনীতি’তে ব্যস্ত রয়েছে।
যখন একটি সংক্রামক ব্যাধি মহামারির রূপ নেয়, তখন প্রতিরোধের চেয়ে চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পর্যন্ত কেউই এই সংকটকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর “আয়ু বৃদ্ধি” সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য তাঁদের কাছে কতটা তুচ্ছ। যেখানে শিশুদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার কথা, সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য শোকার্ত পরিবারগুলোকে মানসিকভাবে আরও আহত করেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, আর কত হাজার শিশুর মৃত্যু হলে রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙবে? আর কত মায়ের কোল খালি হলে হামকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার এই চরম অবহেলা চলতে থাকলে এই মৃত্যু মিছিল থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সরকারের এই নির্লিপ্ততা এবং মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র আজ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। কাগুজে উন্নয়নের আড়ালে শিশুদের জীবনের এই অপচয় ইতিহাসের পাতায় এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

