নিজস্ব প্রতিনিধি :
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল-এ গত এক সপ্তাহ ধরে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হলের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, হলে অবস্থানরত প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রতিদিন অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলের পানি সরবরাহ ও ফিল্টার ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, হলের কয়েকটি “ইলেকট্রিক” ফিল্টারে কার্যকর বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না এবং ফিল্টারের ভেতরে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা হয়নি।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তাদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। বরং ফিল্টারে UV প্রটেকশন সংযোজনের পর সংগৃহীত পানির নমুনার রিপোর্ট দেখিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত একাধিক শিক্ষার্থীকে একসাথে একজন চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয় এবং পৃথকভাবে সবার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরিবর্তে সামষ্টিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরেকটি অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন শিক্ষার্থী গ্রুপে পোস্ট দিলে অনেক পোস্ট অনুমোদন পায়নি। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে হুমকির মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন।
এদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
