নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর সানজিদা আক্তার (১১) নামে এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেট থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সানজিদা ওই এলাকার আমিনুল ইসলামের মেয়ে।

​স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ছোটবেলা থেকেই সানজিদা তার নানি চাঁন ভানুর কাছে লালিত-পালিত হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে প্রতিবেশী চাঁন মিয়া পাগলার বাড়িতে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। শুক্রবার বিকেলে স্বজনরা প্রতিবেশী বিল্লালের মা তহুরুন নেছাকে চাপ দিলে তিনি পলাতক ছেলে বিল্লালের মোবাইল নম্বর দেন।

​পরবর্তীতে ওই নম্বরে কল করা হলে অভিযুক্ত বিল্লাল স্বীকার করে যে, সে সানজিদাকে হত্যা করে নিজেদের টয়লেটে লুকিয়ে রেখেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা টয়লেটে তল্লাশি চালিয়ে সানজিদার মরদেহ খুঁজে পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল বিল্লাল।

​খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় উত্তেজিত এলাকাবাসী বিল্লালের বাবা চাঁন মিয়া ওরফে চান পাগলা, মা তহুরুন নেছা এবং বোন রাবিয়া বেগমকে আটকে রাখলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।

​নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহকর্তাসহ তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।”

​এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অভিযুক্ত বিল্লালকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave A Reply

Exit mobile version