স্পোর্টস ডেস্ক

প্যারিসে প্রথম লেগে হয়েছিল গোলবন্যা। ৫-৪ ব্যবধানে বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে গিয়েছিল পিএসজি। তবে মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লেগে ছিল ভিন্ন এক গল্প টানটান উত্তেজনা, নাটকীয় মুহূর্ত আর শেষ পর্যন্ত বাভারিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস।


চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।
ম্যাচ শুরুর মাত্র ৩ মিনিটে স্তব্ধ হয়ে যায় অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা। বাম প্রান্ত দিয়ে খিচা কাভারাস্কেইয়ার দুর্দান্ত দৌড়, নিখুঁত পাস আর একেবারে ফাঁকায় থাকা উসমান দেম্বেলের সহজ সমাপ্তি—শুরুতেই ৬-৪ অ্যাগ্রিগেটে এগিয়ে যায় পিএসজি। গোলটির দায় এড়াতে পারবেন না বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। ফুলব্যাকদের পজিশন বদলের সিদ্ধান্তই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর দলের জন্য। ইয়োসিপ স্তানিসিচ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন দেম্বেলেকে, আর ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা এমন সুযোগ কি আর মিস করেন!


গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় বায়ার্ন। মাইকেল ওলিসে ও নুনো মেন্দেসের লড়াই ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। শুরুতেই হলুদ কার্ড দেখেও মেন্দেস ছিলেন দুর্দান্ত, এমনকি নিশ্চিত এক গোলও শরীর ছুঁড়ে রুখে দেন। অন্যদিকে কাভারাস্কেইয়া উপামেকানোকে নাটমেগ করে একাই প্রায় পুরো মাঠ পাড়ি দিলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি।
ম্যাচজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে রেফারিং নিয়েও। দুইবার রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরোকে ঘিরে ধরে বায়ার্ন খেলোয়াড়রা। একবার মেন্দেসের সম্ভাব্য লাল কার্ডের দাবিতে, আরেকবার জোয়াও নেভেসের হ্যান্ডবলে পেনাল্টির আশায়। তবে সতীর্থের শরীর ঘেঁষে বল হাতে লাগায় আইনের জটিল ব্যাখ্যায় বেঁচে যায় পিএসজি।


তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে পিএসজির রক্ষণভাগ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের একটি বায়ার্ন মিউনিখকে তাদের নিজেদের মাঠেই প্রায় নিস্তেজ করে রাখেন মার্কিনিওসরা।
যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইনের গোল ম্যাচে সমতা ফেরালেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মাতে প্যারিসিয়ানরা, আর হতাশায় ডুবে যায় অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা।
আর হ্যারি কেইন? ইউরোপসেরার ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্নটা তাঁর কাছে যেন এখনও এক অপূর্ণ দীর্ঘশ্বাস হয়েই রয়ে গেল।

Leave A Reply

Exit mobile version