নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী :
নরসিংদীতে যেন মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে বেলাব, রায়পুরা ও মাধবদী থানা এলাকায় এসব মরদেহের সন্ধান মেলে। রহস্যজনক এই মৃত্যু এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে জেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
প্রথম ঘটনা, ধানক্ষেতে পড়ে ছিল যুবকের মরদেহ: পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ
দিনদুপুরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বেলাব উপজেলার বাজনাব গ্রামে। সকাল ১১টার দিকে বেলাব-শিবপুর সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে রিয়াজুল ইসলাম আপন মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পেশায় কাঠমিস্ত্রি ও ট্রলি চালক এই যুবক বুধবার রাতে বন্ধুর ডাকে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়; বরং আপন মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। নিহতের বাবা মোস্তু মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে।” বেলাব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাসির উদ্দীন জানান, তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
২য় ঘটনা, ভাড়া বাসায় ঝুলন্ত লাশ: হত্যা না আত্মহত্যা?
বেলাব’র রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরে মাধবদী থানার মনোহরপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম ভুঁইয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে আসা এই ব্যক্তি সপরিবারে এখানে থাকতেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ একে আত্মহত্যা বললেও পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৩য় ঘটনা, রেললাইনে অজ্ঞাত বৃদ্ধের ছিন্নভিন্ন দেহ
একই দিন সকালে রায়পুরার আমিরগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার গভীর রাতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
একই দিনে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় এভাবে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নরসিংদীবাসীর মধ্যে এক ধরণের অদৃশ্য আতঙ্ক কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এমন চাপ সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনাই খতিয়ে দেখছে এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।
সবগুলো মরদেহ বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।

