নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৯ বছর বয়সী শিশু মো. রামিম। একটি অটোরিকশার গ্যারেজে দুষ্টুমির ছলে পায়ুপথে উচ্চগতির বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়ার ফলে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত রামিম পলাশ উপজেলার গজারিয়া চড়কারারদী গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার ছেলে। গত বুধবার (৬ মে) সকাল ৯টার দিকে রামিম তার দাদা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে গজারিয়া বাজারে যায়। সেখানে দাদার দোকানের পাশেই ফয়সাল মিয়ার মালিকানাধীন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যারেজে অবস্থানকালে স্থানীয় রিকশাচালক সবুজ মিয়া হঠাৎ করেই টায়ার পাম্প করার মেশিন দিয়ে রামিমের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেন। শিশুটির তীব্র চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে।
প্রথমে শিশুটিকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। বুধবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাকিব আসকারী জানান:
“উচ্চ গতির বাতাস প্রবেশের ফলে শিশুটির অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এতে সে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও পেটে ব্যথায় ভুগছিল।”
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানিয়েছেন যে, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ধরনের ঘটনা কেবল আইনগত অপরাধই নয়, বরং চরম মানবিক অবক্ষয়ের পরিচয় দেয়। ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ বা কারখানায় ব্যবহৃত উচ্চচাপের বাতাস (Compressed Air) মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। সামান্য অসতর্কতা বা তথাকথিত ‘দুষ্টুমি’ যে একটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
