নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদ্রাসার ভেতর আটকে রেখে এক শিশুকে (১১) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গত সাত মাস ধরে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।


ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান। র্যাব জানায়, পালানোর আগে তিনি স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার পরামর্শ নেন এবং আত্মগোপনে থেকেই একটি ভিডিওবার্তা দেন।


র্যাব আরও জানায়, ভিডিওটি যে ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) অ্যাড্রেস ব্যবহার করে আপলোড করা হয়েছিল, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তা শনাক্ত করা হয়। তবে গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত শিক্ষক বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার ও টেলিগ্রামের মতো একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করে সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন। র্যাব সফলভাবে তার ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ‘ইনফিল্ট্রেট’ করে এবং সবশেষে গৌরীপুরে তার অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায়।


মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসা ছুটির পর ওই শিক্ষক শিশুটিকে মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর একটি কক্ষে নিয়ে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত বিরতিতে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি।


সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। গত ১৮ এপ্রিল মদন উপজেলার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।


শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা চিকিৎসক সায়মা আক্তার বলেন, “শিশুটিকে যখন ক্লিনিকে আনা হয়, সে জানায় তার পেট ভার ভার লাগে এবং ভেতরে কী যেন হঠাৎ করে নড়াচড়া করে। পরীক্ষা করে দেখা যায় সে প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় শিশুটি প্রচণ্ড আতঙ্কিত ছিল। বারবার প্রশ্ন করার পর ভয়ার্ত কণ্ঠে সে শুধু বলেছে ‘হুজুর এই কাজ করেছে’।”


গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

Leave A Reply

Exit mobile version