ডেস্ক রিপোর্ট

নেত্রকোণায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের হাতে শিশুছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে আরও ভয়াবহ সব তথ্য। গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্তে আরও অন্তত ৬ জন শিশুছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন পীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এসব ঘটনা দিনের পর দিন ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আইনি জটিলতার ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আইনের আশ্রয় নিতে সাহস পায়নি। এমনকি কোনো কোনো ধর্ষণের ঘটনা স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে মাত্র ৫ হাজার টাকায় ‘আপোষ-মীমাংসা’ করার মতো ন্যাক্কারজনক নজিরও স্থাপিত হয়েছে।


এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ভিক্টিম শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি শিশুদের পরিবার থেকেও প্রতিবেশীদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে যেন বিষয়টি নিয়ে কেউ জানাজানি না করে। এই নীরবতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা দিনের পর দিন এমন ঘৃণ্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার সাহস পেয়েছে।


ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলে বর্তমানে সরকারি নিয়ন্ত্রণবিহীন প্রায় ৩ শতাধিক কওমী ও নূরানী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রান্তিক ও হতদরিদ্র পরিবার থেকে আসা। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ তদারকি ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এসব মাদ্রাসায় ‘সিস্টেম্যাটিকলি’ শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।
ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কারণে অনেক অভিভাবক এখন তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, “আমরা সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য পাঠাই, কিন্তু সেখানে যদি তারা নিরাপদ না থাকে তবে কোথায় যাবে?” পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে অনেক অভিভাবক কৌশলে সন্তানদের মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।


এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয়রা মনে করেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

Leave A Reply

Exit mobile version