নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর | ০৬ মে, ২০২৬
দীর্ঘ সাত মাস কারাবরণ এবং অমানুষিক নির্যাতনের ধকল সইতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাত্র দুই দিন আগে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে জেল থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজকে সাত মাস আগে রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর সেখানে তার ওপর প্রথম দফায় অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তাকে সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখানেও দীর্ঘ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে টর্চারের শিকার হতে হয়। সবশেষে পুলিশি রিমান্ড ও হেফাজতে তার ওপর দিয়ে বয়ে যায় নির্যাতনের স্টিম রোলার।
তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, কারাবন্দী অবস্থায় কুদ্দুস চরম অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। টানা দুই দিন তাকে কোনো প্রকার খাবার দেওয়া হয়নি। ক্ষুধার জ্বালায় কাতর হয়ে এক প্লেট ভাতের বিনিময়ে নিজের পকেটে থাকা ২৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে সেই টাকা নিয়েও তাকে কোনো খাবার দেওয়া হয়নি।
টানা সাত মাস জেল খাটার পর গত পরশু তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন তার শরীরকে এতটাই ভেঙে দিয়েছিল যে, বাড়িতে ফেরার দুই দিনের মাথায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার অকাল মৃত্যুতে শেরপুর জেলা ছাত্রলীগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজের জানাজা ও দাফন আজ তার নিজ গ্রামে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
